মায়াবিনী 

বাবা হ হয়ে বাধ্য হয়েই নিজের মেয়ের বাসর ঘরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়ে গেল। লজ্জায় মরে যাচ্ছে অধরা। তৃতীয়বারের মতো বাসর ঘরে বসে আছে সে । গায়ে ভারি গয়নায় সাজ। একটা মেয়ে এতটা সৌন্দর্য্যের অধিকারিণী হতে পারে, যে অধরাকে দেখেনি সে কখনো বিলিভ করতে পারবে না। 

ঘরের মাঝে মনে হচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদের উদয় হয়েছে। একটু পরেই বর আসবে। অধরা আরেকটা লাশ দেখার অপেক্ষায় আছে। কারণ বাসরঘরে যে একবার স্বামী সেজে ভেতরে ঢুকে তার বের হতে হয় লাশ হয়ে। অধরার এসব ভেবেই কান্না পাচ্ছে অধরা কাঁদছে! হঠাৎ কে যেন বলল বর এসে গেছে! অধরার বর আসার কথা শুনে, ' ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে ঢুকল। 

ফ্রেশ হওয়ার এক পর্যায়ে বুঝতে পারল তার মিনস শুরু হয়ে গেছ। - বাসর রাতে মিনস! ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাঁত করে ওঠল। প্রতিবার বাসর রাতেই হুট করে মিনস হয় তার। সে বুঝতে পারছে কোন এক অদৃশ্য মায়া তাকে আগলে রেখেছে। অধরা কোনরকম ফ্রেশ হয়ে খাটের উপর গিয়ে বসলো।

 - এদিকে অধরার বর আয়াশ বাসায় এসেই অধরার বাবাকে সালাম করে নিল। অায়াশ সবকিছু জেনেই অধরাকে বিয়ে করতে রাজি । সে জানে তার আগেও দু'জন বাসর রাতেই মারা গিয়েছিল। কিন্তু আয়াশ অধরাকে প্রথম দেখায় ভালোবাসে ফেলে। আর অধরা তার বাবার একমাত্র মেয়ে হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি! সব আয়াশের হয়ে যাবে। সবকিছু ভেবেই বিয়েটা করা। - আয়াশ বাসর ঘরে ঢুকেই দরজাটা লাগিয়ে দেয়।দরজাটা লাগাতেই অধরার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে ওঠল! - এদিকে অধরার বাবা সিসি ক্যামেরার সামনে বসে আছে। নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের মেয়ের ফুলশর্য্যা তাকে দেখতে হবে এভেবেই কয়েকফোটা জল গড়িয়ে পড়ে।

মায়াবিনী


জন্মের সময় অধরার মা মারা যায়। - সে দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে হলে তিনি এখনো ঘুমাতে পারে না। অধরা তার সংসারে আসার পর ব্যবসা বাণিজ্য উত্তর উত্তর উন্নতি শুরু হয়! - এদিকে অধরা ভয়ে কাপছে। আয়াশ ঘুমটা খোলার সাথে সাথেই চমকে গেলো। ঠিক একটা পূণিমা চাঁদকে মনে হচ্ছিল কালো মেঘের ঘুমটাই আড়াল করে রাখা হয়েছিল। 

আয়াশ যেন নিজেকে সংযত রাখতে পারছে না। ফুলদানিতে রাখা ফুলটাকে ছোঁয়ার ইচ্ছা প্রবল আকারে কাছে টানছে। - আয়াশ যখন অধরাকে ছুঁতে যাবে ঠিক তখনি অধরা বলে উঠল,' প্লিজ ছুবেন না আমাকে। '' আমার পিরিয়ড চলতেছে! কথাটা বলে লজ্জার মাথাটা নিচু করে ফেলল! - হঠাৎ সারা বাড়ির ইলেকট্রিকসিটি অফ হয়ে গেল! কিন্তু বাসরঘরটা যেন আরো বেশি আলোকিত হচ্ছে। আয়াশ অধরাকে এ অবস্থায় দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। অধরা বার বাে বলছে প্লিজ আমাকে ছুঁবেন না। আয়াশের সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আ

অধরাকে ছোঁয়ার সাথে সাথে অধরা সেন্সলেস হয়ে যায়। কোন কথা আসছে না। বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে দেখে অধরার পাশে আয়াশ শুরু আছে। দরজা ভাঙতেই ইলেকট্রিকসিটি এসে যায়। নিয়ান সাহেব আয়াশকে কয়েকবার ডাক দিয়েই বুঝতে পারলো আয়াশ আর কোনদিন জাগবে না। অধরারও সেন্স নেই। সকালের আগে আর ফিরবে না। - সকাল বেলা পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়। 

কিন্তু ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কোন কারণ উদঘাটন করতে পারে না। - অধরার সেন্স ফিরলে তার বাবাইকে জড়িয়ে ধরে বলে, ' বাবা কি অপরাধ করেছি আমি। কেন অপয়া হয়ে জন্ম নিছি। তুমি কেন নিরাপরাধ ছেলেদের জীবন নষ্ট করছো? - বাবা আমাকে তুমি আর বিয়ে দিতে চেয়ো না। আমি আর কোন মায়ের বুক খালি করতে পারবো না। অধরার কথা শুনে নিয়ান সাহেব কাঁদছে আর বলছে মারে, আমি চাই তুই বেঁচে থাক। 

তুই ছাড়া কে আছে আমার। -অধরার বাবা সাথে সাথে ডাক্তারকে ফোন করে বাসায় নিয়ে আসে। ডাক্তার অধরাকে দেখে,' খানিকটা বিস্মিত হয়ে বলে,' নিয়ান সাহেব আপনার মেয়ে মা হতে যাচ্ছে।  

'''''' চলবে'''' 

গল্পটি ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন