কালোবউ

 পর্ব:-3

মেঘলা: (ওর কথা শুনে সবাই খাওয়া বন্ধ করে ওর দিকে তাকালো। তারপর ওর কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালো আর আমি কিছু না বুঝে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম)

আকাশ: আমরা আগামীকাল ঢাকাকে ব্যাক করছি।

ম: মানে আমি ঢাকাকে ব্যাক করছি??

আকাশঃ আবার কি বলতে চাইছো?

এম: আমরা কেন ঢাকা যাব? এই শহরে আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব শেষ.

আকাশঃ তুমি যাচ্ছো কেন দেখতে যাচ্ছো??

এম: আকাশ, তুমি কি শুরু করলে?

আকাশ: আমি আর এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আগামীকাল সবাই ল্যান্স করে প্রস্তুত হবে।

শুনুন মা আকাশ,,,,,

আকাশঃ (এখন আমি কিছু বলতে চাই না মা। আগামীকাল তোমার জন্য একটি বড় সারপ্রাইজ। বিশেষ করে তোমার জন্য মা। (মিষ্টি হেসে) আমি উঠে রুম থেকে বের হলাম, কিছু কাজ আছে)

মেঘলা: (উঠে উঠে চলে গেল। মা আর চান্দের খুব মন খারাপ হয়ে গেল। মাঝে মাঝে কিছুই বুঝতাম না। এখানে কি হচ্ছে? সবার মন খারাপ দেখে আমি কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ওকে বলতে দিলাম না। আমি গেলাম। রুমে এসে দেখি সে সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু করছে। আমি দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কি করব??)

আকাশঃ (সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। তারপর মেঘলা রুমে চলে আসলাম। অনেকক্ষণ পরও যখন কোন নড়াচড়া লক্ষ্য করলাম না তখন সামনে তাকিয়ে দেখলাম দরজার সামনে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। ভাবছেন) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছেন??


চুপচাপ বেডে শুয়ে পড়লাম। ওয়াও কী নরম

মেঘলা: না, না, মানে হ্যাঁ।

আকাশঃ তোমার কি বলতে সমস্যা হয়?? আপনি মানে, সল্টাইন এবং তাদের আইল্ক, তাই না?

মেঘলা: আ,,, আ,, কই,,, না,,, না,,, তাই।

আকাশঃ তাহলে এখন তোতলাচ্ছ কেন? (ধমক দিয়ে)

মেঘলা: (ওর ধমক শুনে চমকে উঠলাম। এই সামান্য কারনে ধমক দেওয়ার কি আছে?? কি করে বলব? তোমায় দেখলে ভয়ে থর থর করে উঠি।)

আকাশঃ তুমি এখনো প্রতিমার মত দাঁড়িয়ে আছো কেন?? (ধমক দিয়ে)

মেঘলা: (এত ধমকি দিচ্ছেন কেন??) তো, তা হলে কি করবো??

আকাশঃ আর এখন ভগবান ওকে কি বলতে হবে (বিরক্ত হয়ে)?? আপনি অসুস্থ নন, শুয়ে থাকুন এবং বিশ্রাম করুন।

মেঘলা: (কিন্তু শুভ কই?? আমার জ্বর আছে রাতে শুয়ে আছি)

আকাশঃ সেও দাড়িয়ে আছে। আবার কি হলো??

মেঘলা: এম,,, মানে কোথায় ঘুমাবো (মাথা নিচু করে)

আকাশঃ বিছানায় শুয়ে পড় (গম্ভীর গলায়)।

মেঘলা: (আমি চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পরলাম। বাহ, নরম নাকি??)

আকাশঃ (আমি আবার কাজে মন দিলাম। রাত নামার আগেই ফাইল রেডি করে পাঠাতে হবে।)

যত্ন সহকারে পড়ুন--

এর পরের পর্ব অর্থাৎ সবগুলো পর্ব দেওয়া হবে এই আমি, পুরো গল্পটি পড়ার অনুরোধের সাথেই থাকুন। ভালো ভালো গল্প পেতে এই আইডির সাথেই থাকুন! অনেক সময় গ্রুপে গল্প পোস্ট করা হয় না। তাই গ্রুপে গল্প পেতে সমস্যা হলে ফলো বা অনুরোধ করে রাখতে পারেন। ধন্যবাদ.

মেঘলা: (অনেকক্ষণ ধরে ঘুমিয়ে আছি কিন্তু ঘুম আসছে না। সকাল থেকে ঘুমাচ্ছি। এত ঘুমানো কি সম্ভব?

আকাশঃ (কাজ শেষ করে বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা বাচ্চার মত ঘুমাচ্ছে। নিষ্পাপ লাগছে। মুখে কিছু চুল পড়ে আছে। ওকে দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে। নিজের অজান্তেই বিছানায় এসে ওর পাশে বসলাম। .আমি চুল সরিয়ে, সাবধানে কানের পিছনে রাখলাম, কপালে একটা চুমু দিলাম, চোখ গেল গলার তিলের কাছে। তিলের কাছে এনে আবার থেমে গেলাম। না না, আমি কি করছি? আমি কি ভাবছি? আমি কখনই তাকে তার স্ত্রী হওয়ার অধিকার দিতে পারব না। আমি যদি তাকে ভালবাসি না, তবে আমি কেন এই সব ভাবছি? ফ্রেশ হয়ে প্রস্তুত, কিছু কাজ করার জন্য আমি বাসা থেকে বের হয়েছি।)

মেঘলা: (আছরের আযান শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। শুয়ে শুয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই। খেয়াল করলাম উনি রুমে নেই। উঠে ওয়াশরুম থেকে ওযু করে নামাজ পড়তে লাগলাম।)

মুন: ভাবছি আসবো?? 

মেঘলা: (নামাজ শেষ করতেই চাঁদের ডাক শুনেছি।) হ্যাঁ, হ্যাঁ, আসুন।

চাঁদঃ ভাই কোথায়??

মেঘলা: জানি না। ঘুমাতে যাওয়ার আগে দেখলাম সে সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু করছে। ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘর নেই।

চাঁদ: এইও না ভাই। সারাদিন বাসায় থাকে না। ঈশ্বর কোথায় জানেন? আর যতক্ষণ সময় আছে শুধু ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকুন। একটা মানুষ কিভাবে এতটা বদলে যায়??

মেঘলা: কেন কি হয়েছে??

চাঁদঃ আরে ওসব বাদ দাও। আমাকে বাড়ির চারপাশে দেখান।

মেঘলা: ঠিক আছে, চলুন। চাঁদের আগে বাসার সবাই আমাকে ঘর দেখাতে লাগলো। চাঁদের ঘর দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এটি একটি 5 বছর বয়সী শিশুর জন্য একটি ঘর মত দেখায়. এটি টেডি বিয়ারে পূর্ণ। .হাহাহা)

মুন: ভাবছি তুমি হাসছো কেন??

মেঘলা: কই হাসছো?

চাঁদঃ আচ্ছা চল মায়ের ঘরে যাই।

মেঘলা: (আমার রুমের দরজা থেকে দেখছি সে নামাজ পড়ে নামাজ পড়ছে তাই আমি আর রুমে যাই না। উপরে চারটা রুম আছে।, স্টোর রুম, টিয়া আপুর রুম আর একটা রুমে হয়তো আরেকজন চাকর থাকতে পারে, রান্নাঘর, ডাইনিং টেবিল এবং ড্রয়িং রুম।

মুন: এবার বাগানে যাই।

মেঘলা: আচ্ছা (বাড়ির নকশা বাড়ির বাইরে থেকে আরও সুন্দর লাগে। চারপাশে গাছে ঘেরা। বাড়ির দুপাশে ফুলের বাগান। মাঝখানে রাস্তা ঘরে ঢুকেছে। একপাশে একটি সুইমিং পুল। পারফেক্ট জায়গা এটা করতে। আমি যখন বাড়ির বাইরে থাকি তখন আমার পার্কের অনুভূতি হয়।)

মুন: এখন বাড়ির পেছনে যাও।

মেঘলা: আর বাকি আছে??

মুন: আপনি যদি এখনও আসল জায়গাটি না দেখে থাকেন।

মেঘলা: আচ্ছা চলো (বাড়ির পেছনে আসতেই অবাক হলাম। নানা রকম ফলের গাছ। পেয়ারা দেখলেই মুখে পানি চলে আসে) চাঁদ,,,,,,,, পেয়ারা!!! (খুশি হয়ে ডাকলাম)

মুন: বুঝলাম তোমার পছন্দ???

মেঘলা: খুব,,,,,

মুন: আমি গাছে উঠতে পারি না। এই গাছ অনেক লম্বা (মন খারাপ)।

মেঘলা: আমি উঠতে পারি কিন্তু নামতে পারি না (মন খারাপ)

চাঁদঃ হাহাহাহা,,,,আচ্ছা আমি গেলে দারোয়ানের মামাকে ডেকে নিয়ে যাব। এখন সেই পথে যাও।

মেঘলা: আচ্ছা, কিন্তু চাঁদ তো পেয়ারার মৌসুম নয়। গাছে এত পেয়ারা কিভাবে??

চাঁদ: এখানকার বেশির ভাগ বারোমাসি ফলের গাছ।

মেঘলা: ও মাই গড,,,,,, (চিৎকার করে)

মুন: আবার কি হলো??

মেঘলা: পদ্মফুল,,,,,,,,, (সামনে একটি ঘাট সহ পুকুর। সিঁড়ির দুই পাশে কদম গাছের চারপাশে নারকেল গাছ এবং পুকুরে ফুটেছে সাদা, গোলাপী ও বিরল নীল পদ্ম। দুই ধরনের পদ্ম ফুল। সাধারণত বাংলাদেশে পাওয়া যায়।সাদা এবং গোলাপী।নীল পদ্ম কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় একটি হলুদ পদ্ম পাওয়া গিয়েছিল।প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে এটি বিশ্বের একেবারে নতুন প্রজাতির পদ্ম ফুল।

মুন: আমি জানি না। ভাই এই পদ্ম ফুল পুকুরে লাগিয়েছেন।

মেঘলা: তুমি জানো না আজ আমি কতটা খুশি। আমার কত প্রিয় ফুল তা বলে বোঝাতে পারব না। দাঁড়াও, আমি তোমার জন্য দুটি ফুল নিয়ে আসছি।

চন্দঃ হে আরে ভিজে যাবে। তোমার আবার জ্বর আসবে।

মেঘলা: (চাঁদের কথা বলতে বলতে আমি কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে নেমে সিঁড়ির পাশ থেকে একটা সাদা, একটা গোলাপি আর একটা নীল পদ্ম নিলাম।

চাঁদ: ভিজে যাবে। এখন সন্ধ্যা হবে।

মেঘলা: হুম, চলুন। চাঁদ এই বাড়িটা আমার কাছে একজন শৌখিন বাড়ির বাগানবাড়ি মনে হয়।

চাঁদ: হুম, এটা আমাদের, দুঃখিত, আমাদের ভাইয়ের বাগানবাড়ি নয়। বাবা তার 18 তম জন্মদিনে তার ভাইকে উপহার দিয়েছেন। এই বাড়ি বলে আমাকে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়নি।

মেঘলা: মানে??? (অবাক হয়ে)

চাঁদঃ কিছু না। ,,,,, পেয়ারা নেবেন না???

মেঘলা: (চাঁদ হয়তো বলতে চাইবে না তাই আর জোরাজুরি করলাম না। কিন্তু সবকিছু কেমন রহস্যময় মনে হচ্ছে আমার কাছে। ওরা সবাই আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছে।) হুম নেবোতো।

চাঁদ: আচ্ছা দাঁড়াও, আমি দারোয়ান চাচাকে ডাকলাম।

মেঘলা: আচ্ছা,,,,, (কিছুক্ষন পর চাঁদ একা ফিরে এলো) কি হলো?? দারোয়ান চাচা কই??

চাঁদ : বয়স হলে সে গাছে উঠতে পারবে না। এখন আগামীকাল একটা ব্যবস্থা করা যাক।

মেঘলা: না, আজকে দেখলেই পেয়ারা খাব। তুমি ফুল রাখো। আমি উঠছি।

মুন: আরে, তুমি নিচে যেতে পারবে না। তার উপরে, আপনার পোশাকটি খুব ভিজে গেছে, এটি পিছলে পড়বে এবং পড়ে যাবে।

মেঘলা: কিছু হবে না, তুমি শুধু দেখো।

মুন: আরে,,,,

মেঘলা: (আমি গাছে উঠতে শুরু করলাম। আসলে আমি একবার যা করব তাই করব, তবে একা ছেড়ে দিন।

মুন: আমার মনে হয় ওই পাকা দেখ।

মেঘলা: তাই তো।

মুন: আরে না, না, একটু এগিয়ে,

আকাশঃ (গাড়িটা গ্যারেজে রেখে বাসায় ঢুকবো, তখনই কানে এল চাঁদের আওয়াজ। মনে হয় বাড়ির পেছন থেকে। কেউ চিৎকার করে কাউকে কিছু বলছে। পারো আর। নিচ থেকে চাঁদ দেখা যাচ্ছে।আমার মনে হয় প্রথম পুরুষ যে বিয়ের পরদিন কনে গাছে উঠে পেয়ারা দেখতে পায়।আমার ভাগ্য কি??আমি চাঁদে গিয়েছিলাম) চাঁদ কি??? (রাগে ধমক দিয়ে)

চাঁদ: ভি,,,, ভাই আসলে

মেঘলা: (ওর গলার আওয়াজ দেখে নিচের দিকে তাকালাম। দেখলাম ইউনিতো খুব রেগে গেছে। ভয়ে কাঁপতে লাগলাম।

আকাশঃ (মেঘের গলা পেয়ে চাঁদের পিছনে তাকিয়ে দেখলাম মেঘ চলে গেছে।)

মুন: ভাবি,,,,,,,,,,,,,

(দুর্ভাগ্যবশত আকাশ সিনেমার নায়কের মতো মেঘলাকে ধরতে পারেনি। সে চাঁদের সাথে কথা বলে আমাদের মেঘলা মনি পরে গেল)

মেঘলা: ওরে মা আমার পা ভেঙ্গে গেছে।

চাঁদঃ দেখি কোথায় ব্যাথা করে?? (মেঘলার কাছে গিয়ে পা ধরে)

মেঘলাই হে আল্লাহ গো (চাঁদ ছুঁতেই আমি ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলাম)

চাঁদ: আমি তোমাকে উঠতে বলেছি না। এখন ধাক্কা সামলাও।

আকাশঃ (ওদের কাছে গিয়ে) দেখি কি হয়েছে??

মেঘলা: আমার পা ছুঁয়েছো কেন? আমি পাপ করব।

আকাশঃ চাঁদ পাপ হবে না। (আমি চোখ গরম করে মেঘের দিকে তাকালাম)

মেঘলা: আহ, আসলে কারো পা ছোঁওয়া ঠিক না। আর চাঁদ আমার থেকে বয়সে ছোট। আর তুমি আবার কত বড় আমার স্বামী, তোমার পায়ে হাত রাখলে আমার পাপ হবে।

আকাশ: তোমার জ্ঞান তোমার কাছে রাখো, যাই হোক না কেন।

মেঘলা: আআহ (ও আমার কথা শোনেনি। আমি ওর পা ধরতেই ব্যাথা পেলাম।

চাঁদঃ (আমি বসে বসে দেখছি তাদের ভালবাসা হিহিহি)

আকাশ: (গ্রিপটা একটু শক্ত হয়েছে তাই ব্যাথা করছে।) মনে হচ্ছে মচকে গেছে। তোমাকে এই গাছে উঠতে কে বলেছে? (ধমক দিয়ে)

মেঘ:,,,,,,,

চাঁদ: আরে ভাই, ঠিক করতে পারলে বলবেন না।

আকাশ: আপনার নাটক সিনেমার মতো লাগছে? আরেকটা টুইস্ট ঠিক হয়ে যাবে। নাকি আমাকে ডাক্তার মনে করেন?? যদি হাড়গুলি সরানো হয় তবে সেগুলি স্থাপন করা যেতে পারে।

চাঁদঃ আরে ভাই রাগ কেন??

আকাশঃ রাগ না করলে নাচবো। এই আটার বস্তা আমাকে এখন বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।

মেঘলা: (আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম। সে কি এই জন্য রাগ করেছে?? আর আমি কি ভাবছি?? আমি নিজের দিকে অবজ্ঞার হাসি হাসলাম) আমি একা যেতে পারি। চাঁদ একটু সাহায্য কর। আমার হাতটা একটু ধরো।

আকাশঃ (আমি রাগী চোখে ওর দিকে তাকালাম। সে আর হাঁটতে পারছে না। আবার কেমন রেগে আছে।

মেঘলা: (আমি ওর রাগী চোখের দিকে তাকালাম। ওর রাগ উপেক্ষা করে কিছু করার সাহস আমার নেই।)

আকাশঃ চাঁদ, দাঁড়িয়ে আছো কেন? বাসায় গিয়ে ডাক্তার মামাকে ডাকো। তার আসতে সময় লাগবে। (আসলে আমাদের বাড়িটা গ্রামের দিকে একটু। চাঁদের সাথে কথা বলে মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখি মুখ আড়াআড়ি করে বসে আছে। খেয়াল করলাম কোথা থেকে রক্ত ​​বের হচ্ছে আর সালোয়ারটা ভিজে গেছে হাঁটু থেকে) কই। রক্ত থেকে আসে?? আর সালোয়ার ভিজে কেন ( সরু চোখ দিয়ে )??

মেঘলা: (ওর কথায় আমি চমকে উঠলাম। এখন জানলে আমি পুকুরে নেমেছি, সে আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খাবে।

আকাশ: চাঁদ,,,,,, (মনে হয় চাঁদের হাতে কিছু দেখলাম। চাঁদ একটু এগিয়ে তাই ডাকলাম)

মুন: হ্যাঁ ভাই,

আকাশ: (চাঁদ ফিরে আসতেই দেখল তার হাতে তিনটি পদ্ম ফুল। এখন বুঝলাম) তুমি কিছুই না (মেঘের দিকে তাকিয়ে)

মুন: আচ্ছা,,,,

মেঘলা: (ওর দৃষ্টি দেখে ভয়ে গিলে ফেললাম।

আকাশঃ হাত দেখছি,,, (শান্তভাবে)

মেঘ:,,,,,,,,,,,

আকাশঃ আমি তোমাকে হাত দেখাতে বলেছি (জোরে চিৎকার করে)

মেঘলা: (আমি কাঁপতে কাঁপতে হাত এগিয়ে দিলাম)

আকাশঃ (পদ্মফুল কেটে হাত দুটো খুলে গেছে) দেখো,,, হাতের কি অবস্থা। এই কাটা হাত, ভেজা পোষাক পরে তুমি গাছে উঠেছ। তুমি বোকা মেয়ে। আপনার কি জ্বর আছে? কেন ইস্তুপিট পানিতে নামলেন? (ধমক দিয়ে)

মেঘলা: (তার তিরস্কারে আমার আত্মা প্রায় খাঁচা ছাড়াই ছিল।

আকাশঃ তোমার কোনদিন বুদ্ধি হবে না?? সর্বদা একটি বোকা মত কাজ. যাতে আপনি নিজেই বারবার বিপদে পড়েন।

মেঘলা: আমার এই জীবনের কোনো মূল্য নেই। যত তাড়াতাড়ি মুক্তি, তত তাড়াতাড়ি শান্তি (ফিসফিস)

আকাশ: (ফিসফিস করেও সব স্পষ্ট শুনতে পেলাম। কেন জানি না খুব খারাপ লাগছিল। আমার বুকে বা পাশে চিবুক চিবুক ব্যাথা ছিল। কিন্তু কেন?? আমি আওয়াজ না বাড়িয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলাম)

মেঘলা: (ও আর কিছু বলছে না। কোলে নিয়ে শুধু সামনের দিকে হাঁটছে। আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আচ্ছা, এই রাজপুত্র একান্তই আমার হলে কেমন হতো? ভরে দিতাম। রাখলাম। আমার মনের সবটুকু ভালোবাসা আমার স্বামীর জন্য।কিন্তু আমার মতো কালো মেয়ের ভালোবাসার দরকার নেই।আমার চোখ থেকে এক ফোঁটা জল পড়ল।হাতে মুছে দিলাম।কারণ, তোমার নিজের মনের কথা, অন্য কেউ। অদ্ভুত সব গল্প। কালো মেয়েদের এত স্বপ্ন দেখতে হয় না।)

আকাশ: (নিজের প্রতি এত অনীহা কেন বলো?? তুমি নিজের যত্ন নিতে পারো। নিজের জন্য নয়, অন্য কারো জন্য। তোমাকে ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার দেখবে।?? আর কাকে বললাম??)

এম: বুমারের কি হয়েছে? আমি চান্দকে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় তার খালা বলল সে তোমার ছেলেকে নিয়ে আসছে। কিন্তু তোর মা তোর কোলে কেন??

আকাশঃ (কখন ঘরে ঢুকেছি খেয়াল করিনি। মায়ের কথা ভেবে বেরিয়ে পড়লাম।) সেই হাত কেটে ভেজা জামা পরে পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা তুলতে গেল। আর যাওয়ার পর পা মচকে যায়।

মেঘলা: (বাইরে গিয়ে ভুলেই গেছি যে আমি নতুন বউ। মনে হলো বাসা। এখন কি লজ্জা!!!!,,,,,,,,,,,,,)

মিস বউমা, এমন বাতিক কি কেউ করে??? (হালকা ধমক দিয়ে)

Click:🤙


মেঘলা: (অসহায় মুখে মায়ের দিকে তাকালাম)

এম: আপনি ভেবেছিলেন যে আপনি এখন একটি নির্দোষ মুখ তৈরি করলে আপনাকে নিন্দার জন্য ক্ষমা করা হবে

মেঘলা: (মায়ের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। সে কাঁদছে, না ব্যথায়, না সুখে। বাড়িতে যখন হৈচৈ করতাম তখন মাও এভাবে কথা বলত। তাই এখানেই শুরু করলাম।)

আকাশঃ বিরক্ত হলে রুমে যাই। এই আটার বস্তা নিয়ে আর কতদিন দাঁড়াব?

মা, কেমন আছে? জানো, বিয়ের দিন তোর বাবা আমাকে কোলে নিয়ে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে ঢুকতে দেয়নি। আর তুমি এই ছোট্ট মেয়েটিকে তার ছেলে হয়ে তোমার কোলে নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। হাওয়া দিয়ে শরীর বানিয়েছো??

আকাশঃ মা,,,,,,,,

মেঘলা: (আমাকে আটার বস্তা বলা হয়েছে। আমার ওজন মাত্র 50 কেজি, উচ্চতার দিক থেকে নিখুঁত। আর তার হবে 60 কেজির বেশি। শরীর যতটা লম্বা। দেখতে ছোট পাহাড়ের মতো।)

এম: আচ্ছা, ওটা রুমে নিয়ে যাও। দেখি চাঁদ জসিম (ডাক্তার) ভাইকে আসতে বলেছে কিনা??

আকাশঃ (ওকে রুমে নিয়ে এসে সোজা ওয়াশরুমে নিয়ে গেলাম) দেয়ালের পাশে দাঁড়াও আমি আসছি।

মেঘলা: (শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল)

আকাশঃ (ওকে ওয়াশরুমে রেখে আমি ওর লাগেজ থেকে একটা নীল থ্রি-পিস বের করে ওয়াশরুমে গেলাম। জামা কাপড় ভেজা থাকলে আবার জ্বর আসবে) পরে নাও। আমি যখন বের হব তখন আমাকে ফোন করুন।

মেঘলা: আচ্ছা। (সে চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমি আমার পোশাক পরিবর্তন করে নিলাম। একটু কষ্ট হলেও কিছু করার নেই।) হয়ে গেছে।

আকাশ: (ওয়াও, আমার পছন্দের রঙের ড্রেসটা ভালোই লাগছে। আমি আবার তাকালাম আর কোলে তুলে রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।) এখানে থাক দেখি ডাক্তার আঙ্কেল আসছেন কি না? ?

ডাক্তারঃ তোমাকে আকাশে যেতে হবে না। আমি চলে গেছি।

আকাশঃ ওহ চাচা এসেছেন।

ডাক্তারঃ হুম। দেখি আম্মু কোথায়?? (মেঘের পাশে বসে)

মেঘলা: (পা দেখালাম। সে, মা আর চাঁদ আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে)

ডাক্তারঃ হুম, আমি চোট পছন্দ করি। আমি ব্যান্ডেজ করে সাত দিন পর খুলব। আর পায়ে কোন প্রকার চাপ না। কিন্তু তখন সমস্যা বাড়বে। আর এসব ওষুধ সময়মতো খেতে হয়।

মেঘলা: (একটা প্রেসক্রিপশন আকাশের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সে ওষুধ দিয়ে আমার পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ করে দিল। আমার হাতেও ওষুধ দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল।)

ডাক্তারঃ এখন তাহলে আসি। আর মা কি করে একটু সাবধান হতে পারে? এত বড় মেয়ে হলে এত বাতিক?? এখন আবার এই বাড়ির শাশুড়ি হয়েছ। (মিষ্টি হাসি)

মেঘলা: চাচা, আমি সাবধানে থাকব (লজ্জা)।

আকাশঃ চলুন চাচা।

ডাক্তারঃ হুম, চল রুম থেকে বের হই। মেয়েটি কালো হলেও দেখতে খুব মিষ্টি।

আকাশঃ আমি শুধু একটা হাসি দিলাম।

মেঘলা: (সবাই ডাক্তার আঙ্কেলের সাথে চলে গেল। আমি নিজের দিকে তাকিয়ে আছি। হাত-পা দুটো ব্যান্ডেজ করছি। নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে হচ্ছে,,,,,,,..

চাঁদঃ ভাবী আসবো???

মেঘলা: হুম, চলো। (চাঁদের হাতে ফুল দেখে খুশি হলাম)

মুন: এগুলোর জন্য এত কিছু। এগুলো কোথায় রাখবো??

মেঘলা: টেবিলের উপর এই ফুলদানিতে রাখুন।

চাঁদ: ঠিক আছে। (ফুল ছেড়ে) তুমি বিশ্রাম নাও। আমি আসছি.

মেঘ

আকাশঃ (রুমে এসে দেখি মেয়েটা বিছানায় বসে টেবিলের দিকে তাকিয়ে আছে। টেবিলে ফুলগুলো দেখছি।) এই ফুলের জন্য অনেক কিছু হয়েছে। আমি এখন এই ফুলটি ফেলে দেব।

মেঘলা: কি করছো? এটা নিক্ষেপ করবেন না দয়া করে. (আকাশ টাও ফুল ছুড়তে লাগল।

চলবে কি,,,,,,,,,,?

Welcome